বিদায়—একটি শব্দ হলেও এর গভীরতা সীমাহীন। সময়ের প্রবাহে সম্পর্কের সেতুতে এসে উপস্থিত হয় এই কঠিন ও নির্মম বিদায়ের মুহূর্ত। স্মৃতির পাতায় জমে থাকা দিনগুলো যেন আমাদের হৃদয়ে বারবার কড়া নাড়ে। বিদায় অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত সুন্দর বক্তব্য, ছন্দ, ছড়া ও কবিতা স্মৃতিকে করে তোলে মধুর ও আবেগঘন।
বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য, ছন্দ ও কবিতা
বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্যের এমন ছন্দ, ছড়া, কবিতা কিংবা উক্তির প্রয়োজন—যেগুলো অতীতের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে রাখার প্রেরণা জোগায়। সে কারণেই বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্যে সংযোজনযোগ্য নির্বাচিত অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।
বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য (স্কুল, কলেজ ও ভার্সিটি নিয়ে):
ওহে প্রাণের বিদ্যালয়! ওহে বিদ্যাপীঠ! ধন্য তুমি, ধন্য তোমার ক্রোড়, ধন্য তারা তোমার স্নেহময়ী ক্রোড়ে আশ্রয় নিয়েছে যারা। তুমি তো সেই মমতাময়ী মায়ের মত, কষ্ট বা দুঃখের সময় সন্তান আশ্রয়ের যার আদর মাখা আঁচলের ছায়াতলে।
তুমি সে ধৈর্যের নীড়। শত যন্ত্রণাতেও যার চেহারায় ভেসে উঠে না বিরক্তির আভা। তুমি তো সেই দরদী মাতৃক্রোড়, মানবতার কল্যাণে নিজেকে বিলানো যার আদর্শ। দীর্ঘ এক দশক পূর্বে আমরা যখন পথহারা পথিক তুমি তখন পথের দিশারী। যখন পালবিহীন তরীর যাত্রী তখন তুমি সচেতন নাবিক।
সাগরের উদারতা নিয়ে মোদেরকে টেনে নিয়েছ তোমার মমতাময়ী বুকে, দিনরজনীর প্রতি ক্ষণে ক্ষণে রেখেছ স্নেহের আঁচল তলে।
তোমার জান্নাতী সমাদারে বিমোহিত হয়ে ভুলে গিয়েছি দুনিয়ার সকল সাজ-সজ্জায়। এ হৃদয়ে চির আপন করেছি তোমাকে। তুমি যে অতুলনীয় অনন্য। কিন্তু হঠাৎ কর্ণ কুহরে ধ্বনিত হলো এক বেদনা বিধুর ধ্বনি। আজ তোমার প্রতিটি ধূলি-কণা থেকে ভেসে আসছে চাপা কান্নার ফুসফুসানি। হৃদয়রাজ্য বিদায়-বিরহে ব্যথিত তোমার।
কেঁদোনা ওহে প্রাণের বিদ্যালয়! তোমায় কথা দিচ্ছি। আমরা তোমাকে ভুলব না জীবনের কোনো ক্ষণে। জগতের আনাচে কানাচে পৌঁছে দিবো তোমার পুণ্যকীর্তি।
বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য (মাদ্রাসা নিয়ে):
আলবিদা! এই বিশাল অবনিতে যার হয়েছে জন্ম, বিশ্ব নিয়ন্তা তার জীবনীতে লিখেছেন মরণ; যার আছে শুরু, তার আছে শেষ। জামিয়ার এ কাননে ফুটল কত ফুল, ঝরে গেল শেষে। মৌমাছির আগমন হয়, হয় তার বিদায়।
এ বিদায়ের কাতারে আমাকেও দাঁড়াতে হবে তা জেনেছি, শুনেছি। কিন্তু কখনো ভাবিনি বা উপলব্ধি করিনি যে, তার গভীরতা কত…, কত তার ওজন…, কখনো বুঝতে চাইনি তার বাস্তবতা। কিন্তু ধীরে ধীরে তা আজ উপস্থিত আমাদের দুয়ারে, চেপে বসেছে আমার উপরে। যার যন্ত্রণা ছড়িয়ে পড়েছে আমার মেধায়, মস্তিষ্কে, হৃদয়গহ্বরে। ধমনীর প্রতি ফোঁটা রক্তে। আজ আমার কান শুনছে সে বিদায়ের সুর, চোখ দেখছে বিদায়ী পরিবেশ, হাত স্পর্শ করছে বিদায়ী অভিমান, হৃদয় উপলব্ধি করছে বেদনা, মস্তিষ্ক অনুধাবন করছে বিদায়ের নিস্তব্ধতা।
বিদায়ের নিষ্ঠুর আঘাতে অব্যক্ত চাপা কান্নায় আমরা সবাই নির্বাক, নিশ্চল ও নিথর। আহ! কী করুণ বিদায়ের দৃশ্য।
শিক্ষকবৃন্দের উদ্দেশ্যে বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য:
ওহে মোদের শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকবৃন্দ! লক্ষ্য-কোটি বনী আদমের মাঝে আমরা কতক অবুঝ জ্ঞান অন্বেষণের দুর্বার স্পৃহা, দৃঢ় মনোবল ও তীব্র আশা নিয়ে ভিড় জমিয়েছিলাম আপনাদের চরণতলে। যার সুবাদে আমাদেরকে আপনারা প্রস্ফুটিত করে তুলেছেন জ্ঞানের উষার ও আলোর মাধ্যমে।
সাগরসম উদারতা, পাহাড়সম ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে আমাদের প্রাণে জ্বেলেছেন আলোর প্রদীপ। জাগিয়ে তুলেছেন চেতনা। সোনার মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাণান্তকর চেষ্টাকে রেখেছেন সদা অব্যাহত।
স্নেহ-প্রীতির আদলে আগলে রেখেছেন মমতাময়ী মা–বাবার মত। সত্যিই আপনাদের এই ঋণ শোধ হওয়ার নয়। তাই ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বিদায়ের এ সন্ধিক্ষণে ক্ষমা চাচ্ছি সকল অবাঞ্ছিত আচরণের জন্য। কামনা করছি, সকলের নেক দোয়া, যেন ইলমে নববীর আলো পৌঁছে দিতে পারি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। এটাই আমাদের শেষ ফরিয়াদ।
অনুজদের উদ্দেশ্যে বিদায় অনুষ্ঠানের বক্তব্য:
স্নেহপ্রতিম ছোট ভাইয়েরা!
বিদায়ের এই মূহূর্তে স্মরণ হচ্ছে অতীতের শত স্মৃতি, শত মায়ের কোল থেকে এসে আমরা ছিলাম জ্ঞানী পরিবারের এক মায়ের সন্তানের মত। জ্ঞান অন্বেষণের অমিয় বন্ধনে তোমাদের সাথে মোদের গড়ে ওঠে ভ্রাতৃত্বের অপরূপ। আশা করছি ভালোবাসার এই রশ্মি উদ্ভাসিত হবে চিরদিন মনের গহীনে, হৃদয়ের গভীরে।
শিক্ষা জীবনের এই দীর্ঘ সফরে কখনো তোমাদের স্নেহ দিয়েছি কখনো বা দিয়েছি বেদনা। কোনো কষ্টের কথা হয়তো মুছে গেছে স্মৃতির অ্যালবাম থেকে। কোনো কষ্টের কথা হয়তো এখনো ব্যথিত করছে তোমাদের মনকে। বিদায়ের এই অন্তিম মূহুর্তে আমাদেরকে হাসিমুখে বিদায় দাও। সব ভুল মুছে ফেলে দাও হৃদয় থেকে। আর আমাদেরকেও স্মরণে রেখো তোমাদের মুনাজাতে।

বিদায় অনুষ্ঠানের হৃদয়স্পর্শী কিছু কথামালা:
১. বিদায় নিতে চায় না মন:
বিদায় নিতে চায় না মন তবুও বিদায় নিতে হয়। দূরের অতিথি কি ধরে রাখা যায়? যেখানেই থাকব, সামনে রাখবে আখিরাত। দোয়া চাই, শেষ বিদায়ে যেন হয় ইমানের সাক্ষাৎ …
২. চেনা পথ, অচেনা বিদায়:
কালের ঘূর্ণাবর্তে পালাবদল ঘটছে সব কিছুর, পরিবর্তন আসছে জীবনের রূপে ও রঙে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সব কিছু। চেনা পথগুলো অচেনা হয়ে যাচ্ছে। এবার বিদায়ের পালা। সুদীর্ঘ ৯ বছর কাটিয়েছি তোমাদের সাথে। বিদায় লগ্নে হৃদয় গহীনে অনুভব করছি এক শূন্যতা। স্মৃতি বিজড়িত এ জামিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। মনের কোণে জায়গা দিও আমায়। স্মরণে রেখো আমায়, চলার পথে প্রতিক্ষণে। বিদায় হে প্রিয়!….
৩. বিদায়—এক শব্দের শত বেদনা:
বিদায় শব্দটি বড় কষ্টের অভিজ্ঞতায় পাই, তার চেয়ে ব্যথার কোনো শব্দ আর নেই। সহপাঠীদের এ কথা বলতে চাই, আমার সময় ফুরিয়ে গেছে বিদায় দাও আমায়। যখনই শুনি বিদায়ের ধ্বনি, চোখ দুটিতে বয়ে যায় বেদনার পানি, হৃদয়ের মাঝে শত স্মৃতি, কিভাবে দেব বিদায় হে প্রিয় সাথী, দুঃখ-কষ্ট, মনের যত বেদনা, বিদায়ের মাঝে শত বেদনা। এ কথা বলে আর শেষ করা যাবে না।
৪. ছাত্রজীবনের শেষ আলিঙ্গন:
বিদায় মানেই কষ্ট, বিরহ-বেদনা, বিদায় শব্দটাই নির্দয় নিষ্ঠুর। কিন্তু প্রকৃতির নির্দয় পরিবেশের দরুন বিদায় নিতেই হয়। আলিঙ্গন করতে হয় প্রতিটি বন্ধুকে। ছাত্রজীবন থেকে হোক বা কর্মজীবন থেকে।
প্রিয় ছাত্র ভাই! ছাত্র জীবনটা আসলেই সুখের জীবন, যাতে নেই কোনো পেরেশানি, নেই চিন্তা-ভাবনা। প্রিয় ভাই! আজই মনে হয় শেষ দেখা, শেষ কথা বলা। কবে দেখা হয় বলতে পারি না। পৃথক হওয়াটা খুবই বেদনার! দীর্ঘ দিনের এ পথ চলায় আপনাদের সাথে একটা ভালো লাগা, ভালোবাসা তৈরি হয়ে গেছে। পাশাপাশি আচরণ-উচ্চারণে অনেক কষ্ট পেয়েছেন। হাসি-ঠাট্টায় এবং ইচ্ছা করেও আপনাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। বিশ্বাস করুন ভাই! এগুলো ছিল শুধুই মনোরঞ্জন এবং শয়তানের ধোঁকায় পড়ে। এ জীবন চিরস্থায়ী নয়, পরকালে আপনার একটা অভিযোগ আমাকে আটকিয়ে দিতে পারে। তাই ভাই! শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যারাই আমার ছাত্র ভাই, সকলের কাছেই আমি ক্ষমা প্রার্থী। দয়া করে ক্ষমা করে দেবেন। আর আপনার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই, আছে শুধু বুকভরা দোয়া।
ইতি,
আপনার ভাই।
৫. অভিযোগশূন্য বিদায়:
রক্তসম্পর্কতুল্য হে প্রিয় বন্ধু! একাকী সন্ধ্যায় যদি কোনো স্মৃতি জীবন স্থবির করে দেয়, সে স্মৃতি তোমাদের। ভাষাহীন রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়ার স্মৃতি তো তোমাদের গল্প জুড়েই ছড়িয়ে আছে পাতায় পাতায়।
বেখেয়ালি তনুমনে তোমাদের নিষ্পাপ হৃদয়ে কষ্টের আঁচড় কাটা মুহূর্তের জন্য লজ্জিত চিত্তে তোমাদের নিখাদ ভালোবাসা বুকে নিয়ে অভিযোগশূন্য, বিদায় বেলা কয় ফোটা ভেজা অশ্রু নিবেদন করছি তোমাদের সমীপে। আলবিদা…
৬. বাকরুদ্ধ বিদায়ের ক্ষণ:
দেখতে দেখতে কেটে গেল বহু বছর। এসে গেল বিদায়ের পালা। বিদায় শব্দটা এত কষ্টের তা জানা ছিল না। বিদায়ের মুহূর্তে দাঁড়িয়ে সেই কষ্ট আর সহিতে পারছি না। বাকরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। কী বলব তোমাদের হে প্রিয়! যে যেখানেই থাকো, মাকবুল মুনাজাতে আমাকে স্মরণ করিও সবাই।
৭. অশ্রু মুছে শেষ আলিঙ্গন:
প্রিয় বন্ধু! আজ অতীতের সকল মান-অভিমান ভুলে অশ্রু টলমল চোখে প্রীতির হাত প্রসারিত করলাম। এখন আর অভিমান করো না। কোনো অভিযোগ রেখো না। সবকিছু ভুলে আমৃত্যু মনে রাখার প্রত্যয় নিয়ে এবার বিদায় চাচ্ছি চোখের নীরব অশ্রু মুছে হাসিমুখে। এবার বিদায় দাও শিশিরভেজা কোনো এক স্নিগ্ধ ভোরে বা কোনো এক গোধূলি সন্ধ্যায় আবারও তোমাদের সঙ্গে দেখা হবে সেই প্রতীক্ষায়… আলবিদা।
৮. নির্মম বিদায়ের বাস্তবতা:
হে প্রিয় বন্ধুরা! তোমাদের প্রত্যেকের নিখুঁত প্রতিচ্ছবি হৃদয়-ক্যানভাসে এঁকে নেওয়ার পর প্রতিদিন এ পরিচিত মুখগুলোকে এমনভাবে আমাদের বিদায় দিতে হবে- তা কল্পনাও করিনি কখনো। কখনো অনুভব করিনি বিদায়ের বাস্তবতা এতটাই নির্মম। বিদায়ের চিত্র এতটা করুন। তোমাদের ত্যাগের তীব্র বেদনা আজ যেন আমাদের অন্তরে তুলে দিয়েছে তীব্র সুর –
কত শত স্মৃতি কেঁদে ওঠে
বড় স্ব-করুণ সুর,
বিরহে কাতর স্মৃতি যেন বলে
বিদায় তুমি বড় নিষ্ঠুর।
৯. বিদায়ী পেয়ালার তিক্ত সুধা:
বিদায় শব্দটা খুবই নিষ্ঠুর। বিদায় লগ্নটা খুবই কষ্টের। তাই ভেবেছিলাম নিষ্ঠুর শব্দটা কখনো উচ্চারণ করব না। কষ্টের সময়ে কখনো উপনীত হব না। কিন্তু কালের আবর্তনে ও সময়ের নিষ্ঠুর আচরণে নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও পান করতে হচ্ছে বিদায়ী পেয়ালার তিক্ত সুধা। শরিক হতে হচ্ছে বিদায়ী মিছিলে। তাই চোখ ভরা জল, বুক ভরা ব্যথা নিয়ে বলছি ভাই! দোয়া করি যেখানেই থাকো সুখে থাকো সবাই। মাকবুল দোয়াতে স্মরণ রেখো আমায়। বিদায়… বিদায়… বিদায়…
১০. জান্নাতে আবার দেখা হবে:
বিদায় এমন একটি শব্দ, যা শোনা মাত্রই চেখে আসে জল, মনে আসে ব্যথা, মনে আসে বন্ধুরা তোমাদের কথা। এসে যায় স্মৃতির পাতায় পূর্বের দিনগুলোর কথা। যা ছিল মনের মাঝে ভালোবাসায় গাঁথা।
বিদায় চাই বিদায় দাও,
এই তো হল প্রথা। মনে রেখো বন্ধুরা,
আমি অধমের কথা।
দোয়া চাই দোয়া করো মাকবুল মুনাজাতে,
আবার যেন দেখা হয় সকলে সেই জান্নাতে।
১১. বিদায়ী সুরে আজ হয়েছে হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত:
বিদায়ী সুরে আজ হয়েছে হৃদয় ক্ষত-বিক্ষত। সে হৃদয়ে অধম আজ ক্ষমা প্রত্যাশিত। হাঁটি-হাঁটি করে চলার পথে করেছি কত ভুল। সে ভুলের কারণে আজ হৃদয় ব্যাকুল। ভুলগুলো ভুলে দিও ক্ষমা করে সারা জীবন রবে তোমরা হৃদয় গহীনে।
১২. মনে রেখো সহায় সম্প্রীতি:
জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কাটিয়েছি বন্ধু তোমাদের সাথে। কোনো কথা বা কাজে কষ্ট পেলে রেখো না তা হৃদয়ে গেঁথে। দোয়ার পাশাপাশি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি রেখো আমার প্রতি। অতীতের ত্রুটি-বিচ্যুতি ভুলে গিয়ে মনে রেখো সহায়-সম্প্রীতি।

মাদ্রাসার বিদায় অনুষ্ঠানের হৃদয়স্পর্শী কিছু কথা:
১. বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ উক্তি:
সুন্দর বিদায় হল ক্ষতি না করে বিদায় নেওয়া। সুন্দর ক্ষমা হল বকা না দিয়ে ক্ষমা করা। সুন্দর ধৈর্য হল অভিযোগ না রেখে ধৈর্যধারণ করা। – শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.।
২. ইলমের পথে নয় বছরের পথচলা:
সর্বপ্রথম যখন ঐশী ইলমের সন্ধানে এই জামিয়ায় ইবতিদাইয়্যাহ জামাতে ভর্তি হলাম। তখন মনে হয়েছিল দাওরায়ে হাদিস পড়ার অনেক সময় বাকি। কিন্তু না, দেখতে না দেখতেই সময়ের স্রোতে চলে গেল জামিয়াতেই নয় বছর। মনের অজান্তেই গড়ে উঠল সকলের সাথে সখ্যতা, ভালোবাসা ও গভীর মুহাব্বত। মনে হয়েছিল সবাই একই মায়ের সন্তান। এভাবেই থাকব চিরকাল। হঠাৎ ভেসে উঠল নিষ্ঠুর বিদায়ের সুর। কষ্ট হচ্ছে, তবুও শাশ্বত নিয়ম মানতেই হচ্ছে। ক্ষমা করো আমায় আর মনে রেখো সবাই।
৩. আলবিদা… আলবিদা!
বিদায়, যা হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়। যা আসে সবার জীবনে দুঃখের পাহাড় নিয়ে। ছিন্ন করতে পৃথিবীর বন্ধন। কালের আবর্তনে চলে এলো সে আমাদের মাঝে। ইলাহী রহমে নববী পরশে দরসে হাদীসে ছিলাম সবাই একই বন্ধনে আবদ্ধ। বিদায় এসে ছিন্ন করে দিল সে অমূল্য বন্ধন। এবার চলবে সবাই লক্ষ্য অর্জনে নিজ নিজ পথ।
৪. বেহেশতের পথযাত্রী আমরা এক কাফেলা:
বেহেশতের পথযাত্রী আমরা এক কাফেলা। ইলমের তলবেই কুরআনী বাগিচায় আমাদের এই মিলন-মেলা। মনের অজান্তেই হৃদয় গহীনে পরস্পর গেঁথে ছিলাম প্রেমের মালা। ফলে একই সঙ্গে জমে থাকতাম সাঁঝ-সকালে কুরআন-সুন্নাহর অধ্যবসায়। আবার একচ্ছভাবে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া ফেলতাম বিকেল বেলার খেলাধুলায়। কিন্তু এই বন্ধুত্বপূর্ণ স্বাধীন, অভিলাষী জীবনযাত্রায় হঠাৎ বিচ্ছেদের ঘণ্টা বাজিয়ে দিলো এক রুদ্ধস্বভাবী “বিদায়”। ভগ্ন হৃদয়ে বিদায়ের অসহ্য গ্লানি নিয়ে এই প্রস্থানকালে বন্ধু তোমাদের বলে যাই। বাহ্যত বিচ্ছেদ হলেও অন্তর থেকে ভুলিনি তোমাদের। ভুলোনা কিন্তু আমায়।
৫. সুখ-স্মৃতিতে বিদায়ী প্রার্থনা:
শত মায়ার বাধন ছিন্ন করে ইলমে ওহীর অমিয় সুধার লিপ্সায় হন্যে হয়ে ছুটে এসেছিলাম কুরআন সুন্নাহর পাঠশালায়। ছাত্র-উস্তাদ সকলে মিলে সৌহার্দের মোহনায় একাকার হয়ে মধু মক্ষিকার ন্যায় ব্যস্ত ছিলাম। ইলমে ওহীর মৌ আহরণের নিমগ্নতায়। এরই মধ্যে হঠাৎ কড়া নেড়ে উঠল অপ্রীতিকর একটি শব্দ ‘বিদায়’! যা হৃষ্টতা ও হৃদ্যতার সেতু বন্ধন ছিন্নকারী অসভ্য এক বায়ারা। নিয়তির বড় দুর্ব্যবহারের কারণেই অনিচ্ছা সত্ত্বেও কানে নিতে হচ্ছে বিদায়ের শ্রুতিকটু কথা এবং সাড়া দিতেই হচ্ছে তার ডাকে চেপে রেখে হৃদয়ের শত যাতনা ও বিয়োগ ব্যথা।
তবে বন্ধু! স্বার্থের সুবাদে, জীবিকার তাকিদে যে যেখানেই থাকবে। মুনাজাতে মাকবুলে ও শান্তি মুখর স্মৃতির অ্যালবামে আমাকেও কিন্তু সাথে রাখবে। অবশেষে সুদীর্ঘ কালের জোরালো এই মিলনমেলার বিচ্ছেদ লগ্নে একটি ব্যথিত আত্মার বেদনা বিধুর একটি আর্জি… শুনো ভাই! বাদানুবাদ ও মনোমালিন্যের কথা ভুলে গিয়ে পরস্পর সখ্যতা ও ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি রাখা চাই। চলে যাই বন্ধু, ভালো থেকো, সুখে থেকো। বিদায়… বিদায়… বিদায়।
৬. নববী দায়িত্বের পথে বিদায়:
ইলমে ইলাহী ও রিসালাতের অমিয় খুশবুতে বিমোহিত হয়ে প্রায় অর্ধ যুগ পূর্বে আমরা এসেছিলাম এই ইলমী উদ্যানে। নশ্বর পৃথিবী নামক জগতের চোরাবালিতে স্থাপিত জাগতিক শিক্ষা নিকেতনে যাইনি। স্থান করিনি মন ভুলানো কারুকার্যখচিত কোনো বিদ্যালয়ে। ছুটিনি পার্থিব মরীচিকার পেছনে। বরং একান্ত আপন করে নিয়েছিলাম ইলমে দ্বীনকে। কিন্তু আজ শিক্ষা নিবাসকাল শেষ হতে না হতেই সেই ইলমে উদ্যান থেকে বিদায়ের সিঁড়িতে পা রেখে কর্তব্যের খাতিরে বিদায়ী ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে চললাম আমরা দ্বীনের বিশাল কর্মময় ময়দানে নববী দায়িত্ব পালনের বৃহত্তর অঙ্গনে। বিদায় নিতে চায় না তো মন। তবুও আজ এসেছে বিদায়ের ক্ষণ। জানি! নশ্বর এ বসুন্ধরায় কেউ নয় চিরস্থায়ী। কিন্তু তাই বলে কি এ জীবন মধ্যাহ্নে বিদায় সুকনিয় বাজাই গলার আওয়াজ শুনতে হবে তা কখনো ভাবতে পারিনি।
বিদায় অনুষ্ঠানের হৃদয়স্পর্শী ছন্দ ও কবিতা:
১. কত শত স্মৃতি কেঁদে ওঠে:
কত শত স্মৃতি কেঁদে ওঠে বড় স্ব-করুণ সুর,
বিরহে কাতর স্মৃতি যেন বলে
বিদায় তুমি বড় নিষ্ঠুর।
২. দিন ফুরালো:
বন্ধু মোদের দিন ফুরালো,
এবার যাবার পালা।
হাসিমুখে নিলাম বিদায়,
লুকিয়ে মনের জ্বালা।
৩. নম্র বিদায়:
বিদায় চাই বিদায় দাও,
এই তো হলো প্রথা। মনে রেখো বন্ধুরা,
আমি অধমের কথা।
দোয়া চাই দোয়া করো মাকবুল মুনাজাতে,
আবার যেন দেখা হয় সকলে সেই জান্নাতে।
৪. আলবিদা:
হয়তো বা কেউ জ্ঞানের আলোয় রাঙ্গাতে ভুবন,
বাতিলের বিনাশে কেউ লড়বে তখন।
পথহারা জাতিকেও আনবে পথে,
আর্জি শেষে খোদার কাছে।
সদা থাকি মোরা দ্বীনের পথে….
মধু সংগ্রহে মৌমাছি হয়ে এসেছি এই মৌচাকে।
এ কানন ছেড়ে যাব আজ ফিরে হবে না তা কভু খালি,
আসবে আবার কত জ্ঞানের সুধা সন্ধানী মালী।
এখানে প্রতিটি বালুকণা ঘিরে রয়েছে মোদের প্রীতি,
ক্ষণিকের এই ব্যবধানে আজ হয়ে গেছে তাও স্মৃতি।
ঘুরে ঘুরে আজ শুনছি আওয়াজ বিদায়ী করুণ সুর,
বড় নিষ্ঠুর হে বিদায় তুমি কতটা বেদনা বিধুর।
ভগ্ন হৃদয়ে যাপিয়ে কষ্ট বিরহের ক্রন্দন
অমর-অটুট রেখো হে বিধাতা আমাদের বন্ধন।
বিদায় অনুষ্ঠানের ছন্দ, বাক্য ও কবিতা – PDF ডাউনলোড করুন:
বিদায় অনুষ্ঠানের জন্য মন ছুঁয়ে যাওয়া ছন্দ, বাক্য ও কবিতার একটি সমৃদ্ধ সংগ্রহ আমরা তৈরি করেছি। এই সংগ্রহ থেকে আপনি পছন্দসই বক্তব্য ও কবিতা বেছে নিতে পারবেন। বিদায় বেলার স্মৃতিকে আরও হৃদয়গ্রাহী করতে এটি অত্যন্ত সহায়ক হবে।
বিদায় অনুষ্ঠানের ছন্দ, বাক্য ও কবিতা PDF
কী পাবেন এই PDF-এ?
- হৃদয়স্পর্শী বক্তব্য
- আবেগঘন ছন্দ
- স্মৃতি রোমন্থনকারী কবিতা
- বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার বার্তা
চলমান বক্তৃতায় এই উপাদানগুলো যুক্ত করে সহজেই আপনি আপনার বক্তব্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারবেন। এছাড়াও, এই ছন্দ ও কবিতাগুলো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, বিদায় বার্তা বা স্মরণীয় কথামালায় ব্যবহার করে মনের আবেগকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে পারেন।
স্মৃতির মাধুর্য ধরে রাখুন এবং বিদায়ের মুহূর্তকে মধুর করে তুলুন!
বিদায় অনুষ্ঠানে এই সেরা বক্তব্য, ছন্দ ও কবিতাগুলো আপনার সঙ্গী হোক। 🌸
